শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক:: বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস জাতীয় ক্রিকেট দল প্রথমবার বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে মাঠে নাবে আজ। সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে।
এর আগে দুইবার বাংলাদেশে এসে খেলেছে নেদারল্যান্ডস। কিন্তু কখনোই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা হয়নি তাদের। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ পিছিয়ে যাওয়ার পর ফাঁকা স্লট ছিল বাংলাদেশের। নেদারল্যান্ডসকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালে তারাও সুযোগটি লুফে নেয়।
নেদারল্যান্ডসের জন্য এই সিরিজটা কতোটা বড় তা তাদের কোচ রায়ান কুকের কণ্ঠে টের পাওয়া গেল, আমরা বিশ্বাস করি, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে যে কোনো দলকে আমরা হারাতে পারি। আমরা দেখিয়েছি যে আমরা তা পারি।
অকপট, আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বড় কারণ, শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছি। বাংলাদেশের সাবেক ফিল্ডিং কোচ সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিয়ে আরেকবার হুমকিও দিয়ে রাখলেন, গত বিশ্বকাপে আমরা ওদেরকে হারিয়েছি। আবার একই গ্রুপে পড়লে (বিশ্বকাপে) আবারও চেষ্টা করব হারাতে।
নিজেদের ক্রিকেট, নিজেদের আত্মবিশ্বাস, নিজেদের খেলার ধরনে গর্ব খুঁজে পান রায়ান কুক, এবারও বিশ্বাস আছে। কিছু ক্রিকেটারকে এগিয়ে আসতে হবে এবং পারফর্ম করতে হবে অবশ্যই। তবে ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে, শুধু এখন নয়, গত তিন বছর ধরেই। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আমরা ক্রমেই উন্নতির পথে হাঁটছি। অনেকবারই বিশ্বকাপে খেলেছি। এবার টানা চতুর্থবার হচ্ছে (ষষ্ঠবার)। এই দলগুলির সঙ্গে খেলতে ও তাদেরকে হারাতে যা করা প্রয়োজন, সেসবের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আমরা।
মাসখানেকের বিরতির পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলার পরপরই বাংলাদেশ এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই প্রস্তুতির মঞ্চ। যদিও ডাচদের নিয়েও বেশ সিরিয়াস বাংলাদেশ শিবির।
অন্তত কোচ ফিল সিমন্সের কথাতে তাই মনে হলো, আমরা তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলছি এখানে। যখন আপনি বলবেন আন্তর্জাতিক, সেটার মানে হচ্ছে আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলবেন। তারা শেষ দুটি বিশ্বকাপে খেলেছে, ভালোও করেছে। বিশ্ব ক্রিকেটে কাউকে আন্ডাররেট করার সুযোগ আমি দেখি না। সবারই জয়ের সুযোগ আছে। আমি এশিয়া কাপ নিয়ে ভাবছি না। এশিয়া কাপ এই সিরিজের পর হবে। এটা আন্তর্জাতিক একটা দলের বিপক্ষে সিরিজ। আমাদের নজরটাও এখানেই।
বাংলাদেশ সিরিজে ভালো করে জিতে গেলে প্রাপ্তির ঝুলিতে খুব বেশি কিছু যোগ হবে না তবে হারলে সমালোচনায় বিদ্ধ হবে। সিমন্স খুব ভালো করেই তা জানেন। তবে ছেলেদের পাশেই তিনি আছেন তা বোঝা গেল, ‘‘আমরা যদি অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারি, তখনো সমালোচনা হবে। র্যাংঙ্কিংয়ে নিচে থাকা দলের কাছে হারও তাই খারাপ কিছু নয়। কারণ আমরা যদি ভালো না খেলি নির্দিষ্ট দিনে, আমাদের সমালোচনাটা প্রাপ্য। যদি ভালো খেলার পরও তারা আমাদের হারায়, তাহলে যোগ্য হিসেবেই হারাবে।
বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করতে পারে পরিসংখ্যান। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাংলাদেশ ৫টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ৪টিতে বাংলাদেশ জিতেছে। নেদারল্যান্ডসের জয় ১টিতে।